সোমবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬ মাঘ ১৪৩২
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)
বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ডে হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে বহু পাখির মৃত্যু: ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির অভিযোগ

❒ দায়ী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ জানুয়ারি , ২০২৬, ০৭:১৪:০০ পিএম
বেনাপোল সংবাদদাতা:
Shornolota_2026-01-18_696ceb118da19.jpg

❒ বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ডে হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে বহু পাখির মৃত্যু: ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির অভিযোগ ছবি:

বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালের হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎ শকে একসঙ্গে অসংখ্য পাখির মৃত্যুর ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ারিং অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ নকশার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইয়ার্ড এলাকার একটি হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের নিচে বিদ্যুৎ সংযোগ বক্সের তালা খোলা হলে ভেতরে প্রায় ত্রিশটি মৃত পাখি পাওয়া যায়। এর পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দরের ভেতরে থাকা প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেই একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই হাই-মাস্ট লাইটের আশপাশে এক-দুটি করে পাখির মৃতদেহ দেখা যাচ্ছিল। তবে বিষয়টি তখন গুরুত্ব পায়নি। শনিবার একসঙ্গে এত সংখ্যক মৃত পাখি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, মৃত পাখিগুলো অতিথি পাখি, সম্ভবত আবাবিল প্রজাতির। রাতে তীব্র আলো ও শীতের কারণে পাখিগুলো হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁকা অংশে আশ্রয় নিত। কিন্তু ল্যাম্পপোস্টে খোলা ও অপর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় তারা বিদ্যুৎ শকের শিকার হয় এবং একে একে মারা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়—বরং সরাসরি ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির ফল। নিয়ম অনুযায়ী হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ লাইনের সুরক্ষিত কাভার, যথাযথ ইনসুলেশন এবং বন্যপ্রাণী-নিরাপদ নকশা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব মানা হয়নি বলেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতির কারণেই এখানে বারবার বন্যপ্রাণীর প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তারা।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি তার কাছে গুরুত্বহীন বলে মনে হয়। তিনি বলেন, “বিষয়টি কয়েকদিন আগে শুনেছি। আগামিকাল এ বিষয়ে ঢাকায় চিঠি পাঠাবো।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দায়ী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্যপ্রাণীবান্ধবভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝