| শিরোনাম |
❒ যশোর পুলিশের বড় সাফল্য
❒ মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায় প্রিন্স নামে আরেক ব্যক্তি
যশোরে আলোচিত বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত নেতার মেয়ের জামাইয়ের পরিকল্পনা ও সরবরাহ করা অস্ত্রেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী ওরফে মিশুকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) গ্রেপ্তারের পর ত্রিদিব চক্রবর্তীকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বুধবার গভীর রাতে যশোর শহরের বেজপাড়া মন্দিরসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ত্রিদিব বেজপাড়া চিরুনি কল এলাকার বাসিন্দা ও পুরোহিত মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাথের ছেলে।
যশোর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে ত্রিদিবকে শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে হাজির করার পর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ত্রিদিব জানান—এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত আলমগীর হোসেনের মেয়ের জামাই পরশ এবং তার প্রতিবেশী সাগর। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগমুহূর্তে প্রিন্স নামের এক ব্যক্তি তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি স্থানে নিয়ে যান। সেখানে পরশ, সাগর, অমিসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার দেখা হয়।
জবানবন্দি অনুযায়ী, কথাবার্তার একপর্যায়ে পরশ নিজের শ্বশুর আলমগীর হোসেনকে হত্যার জন্য ত্রিদিবের হাতে অস্ত্র ও টাকা তুলে দেন। এরপর সেখান থেকে অমির মোটরসাইকেলে চড়ে আলমগীরের পিছু নেন ত্রিদিব এবং সুযোগ বুঝে নিজেই গুলি করে তাকে হত্যা করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি নিজ বাড়িতেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি রাতে যশোর শহরের নিজ এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে মেয়ের জামাই পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই ডিবি পুলিশ মূল শুটারসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে।