| শিরোনাম |
মানব পাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা নারী ও পুরুষ সারভাইভারদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর দু'দিনব্যাপী জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে যশোর শহরের শহীদ স্বপন সড়কস্থ ‘প্রশান্তি নিলয়’-এর কনফারেন্স রুমে প্রশিক্ষণটি সমাপ্ত হয়।
দাতা সংস্থা সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আওতায় সোমবার এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রকল্পের কেস ম্যানেজার (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট) ফাতিমা আফরোজ রুমকি এবং তথ্য কর্মকর্তা ও সোশ্যাল মবিলাইজার বজলুর রহমান প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, ‘আশ্বাস’ প্রকল্প মানব পাচারের শিকার হয়ে বিদেশ থেকে ফিরে আসা নারী-পুরুষদের পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জীবন নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
দু'দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন কেস ম্যানেজার (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট) ফাতিমা আফরোজ রুমকি, সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলর তাহমিনা আক্তার ও তন্দ্রা দাস, তথ্য কর্মকর্তা ও সোশ্যাল মবিলাইজার বজলুর রহমান এবং সোশ্যাল মবিলাইজার বিপ্লব রাহা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, রাইটস যশোর দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের এই প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং জীবনকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, মানব পাচার একটি জঘন্য অপরাধ। তাই বিদেশগামী প্রত্যেককে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং দালালচক্রের প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে হবে। সচেতনতাই মানব পাচার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি তিনি যেকোনো প্রয়োজনে রাইটস যশোর সারভাইভারদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সারভাইভাররা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এ প্রশিক্ষণ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে কর্মমুখী জীবনে এগিয়ে যেতে নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তারা জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত বিভিন্ন ট্রেডে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
প্রশিক্ষণে আত্ম-অনুসন্ধান, মানুষ ও মানবিক মূল্যবোধ, ইচ্ছা ও স্বপ্নের পার্থক্য, অধিকার ও দায়িত্ব, পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সমস্যা শনাক্তকরণ ও সমাধান, যোগাযোগ দক্ষতা, ব্যক্তিগত সম্ভাবনা ও দায়বদ্ধতা, নিরাপদ অভিবাসন, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, মানব পাচারের কারণ, শাস্তি ও প্রতিরোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
দু'দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত সারভাইভারদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা।
প্রশিক্ষণে যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ২৪ জন নারী ও পুরুষ সারভাইভার অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শ্যামল মল্লিক। প্রেস বিজ্ঞপ্তি