বল পেলেই জালে জড়ানোর অভ্যাস পুরনো আনিং হল্যান্ডের। প্রিমিয়ার লিগে নিয়োমিত এমনটা করেন বলেই এরইমধ্যে তার নাম হয়ে গেছে গোল মেশিন। ব্রাজিল ম্যাচের আগে তাই আলোচনায় ছিলেন তিনি। তবে রবিবার রাতে ম্যাচের ৭৮তম মিনিট পর্যন্ত যেন তাকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিলো না। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে তাকে স্বরূপে ফিরতে দেখা গেল। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের বাড়ানো ক্রসে গ্যাব্রিয়াল মাগালাইসকে ছিটকে ফেলে হেডে বল জালে জড়িয়ে এগিয়ে দেন নরওয়েকে। এর ১১ মিনিট পর আবারও সেলেসাওদের শিবিরে বল জল জড়িয়ে দেন তিনি। এই গোলেই মূলত প্রথমবারের মতো নরওয়ের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়ে যায়। দলকে জেতানোর জন্য পুরো ম্যাচের বদলে কয়েকটি মুহূর্ত হলেই যে চলে, সেটি মনে করেন হল্যান্ড নিজেও।
অল্প কয়েকটি সুযোগ থেকেই গোল বের করে আনার সামর্থ্য ‘সৃষ্টিকর্তার উপহার’ বলছেন হল্যান্ড । পাশাপাশি এই জয়কে তিনি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ জয় বলেও অভিহিত করেছেন। ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমি যদি এক-দুটি সুযোগ পাই, বেশির ভাগ সময়ই সেগুলো গোলে পরিণত হয়। কীভাবে এটা করি, আমি নিজেও জানি না। তবে এমনটাই হয়। আসল বিষয় হলো শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা। আমি নিজেকে বলি, সুযোগ আসবেই।’
এদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই এখন পর্যন্ত ৭ গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছেন হল্যান্ড। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্রেজেগোরজ লাতোর পর এই প্রথম কোনো ফুটবলার নিজের অভিষেক বিশ্বকাপেই সাত গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে সাত গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন লাতো। ৫২ বছর পর সেই অনন্য কীর্তির পাশে নিজের নাম লেখালেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত হল্যান্ডের সমান গোল রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপেরও। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকা এই স্ট্রাইকারকে এমন ফর্মের রহস্য বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমি বুঝতে শুরু করেছি যে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে ঢুকে যাওয়াটা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এক উপহার। ব্যাপারটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে এই জয়কে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সেরা দিন বলে মন্তব্য করে হল্যান্ড, ‘হয়তো এই দিনটাই নরওয়ের ফুটবল ইতিহাস বদলে দেবে। এখন সবার উচিত এই মুহূর্তটা উপভোগ করা। আজকের দিনটা অবিশ্বাস্য। নরওয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। এই মুহূর্তকে আপন করে নিন, উপভোগ করুন।’
এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ইতিহাসই রচনা করল ইউরোপের দলটি। এর আগে তারা ১৯৩৮ এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ শেষ ষোলোয় উঠেছিল। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের সঙ্গে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখল দ্য ভাইকিংরা।