| শিরোনাম |
❒ বিব্রত জামায়াত, দেয়া হলো সতর্কবার্তা
❒ ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় নড়াইলের এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, পিএস বরখাস্ত ছবি:
নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু) তাঁর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকায় নিজের এক মেয়ের নাম দুই জায়গায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করেছেন সংসদ সদস্য। একই ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও এমপি আতাউর রহমানকে সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে এমপি আতাউর রহমানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে পিএসকে বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়। পৃথক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানায়, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাম্প্রতিক এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এমপি আতাউর রহমানকে দলের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার সচিবালয়ের একটি অনুদান মঞ্জুরির চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই চিঠিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার বরাদ্দ তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের জন্য ৮০ হাজার টাকা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। তালিকার দুই স্থানে এমপি আতাউর রহমানের এক মেয়ের নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
সমালোচনার মুখে শনিবার এমপি আতাউর রহমান তালিকাটি সঠিক বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তালিকা তৈরির দায়িত্বে ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী। তাঁর ভাষ্য, তিনি নড়াইলে না থাকায় পিএসকে একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে বলেছিলেন। পরে পরিচিতজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যের নামও তালিকায় চলে আসে।
রোববার জারি করা বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদেশটি ২৮ জুন থেকে কার্যকর হবে।
এদিকে বরখাস্তের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরান বলেন, বরখাস্তের চিঠি তখনও তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এবং অনুদানের তালিকা তৈরিতে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।