| শিরোনাম |
❒ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ, মানববন্ধন থেকে রুমিন ফারহানার হুঁশিয়ারী
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শন স্থগিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর পর কোনো অবস্থাতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমাটি দেখতে না দেওয়ার বিষয়ে কওমি শিক্ষার্থীদের বাধায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য দায়িত্ব জ্ঞানহীন এবং অসহায়ত্বের প্রকাশ বলে দাবি সচেতন মহলের অনেকে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এমপি ব্যারিষ্ট্রার রুমিন ফারহানার নেতৃত্বে আজ ১ জুন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কাজে সরকারের মদদ আছে বলেও মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে জেলা শহরের কান্দিপাড়াস্থ জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর সিনেমা প্রদর্শন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয় কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
এর আগে, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ফেসবুকে এই প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে তীব্র নেতিবাচক প্রচারণা শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
কওমি ঐক্যপরিষদ নেতা নাসরুল্লাহ মুয়াজ নিজের ফেসবুক আইডিতে সিনেমার ফটোকার্ডে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে এ ধরনের কার্যক্রমকে ‘সিনেমা চালুর উপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। এরই জেরে গত শুক্রবার বিকেলে কওমি ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ও জেলা হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজমের সভাপতিত্বে ইউনুছিয়া মাদরাসায় শীর্ষ আলেমদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যেকোনো মূল্যে প্রদর্শনী প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি আজ বাদ যোহর মাদরাসায় সতর্কতামূলক অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বিতর্কের মুখে গতকাল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার শাহরিয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় বাধার সম্মুখীন হওয়ার পরও আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ হামলার আশঙ্কায় অনুমতি বাতিল করেছে এবং প্রশাসন থেকেও আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমাদের আপাতত এটা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, যারা এটি দেখতে চান না তারা বর্জন করতে পারেন, কিন্তু অন্যদের প্রদর্শনীতে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সিনেমা প্রদর্শনীতে বাধা দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক আব্দুন নূর জানান, সিনেমাটির প্রদর্শনী ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্পর্কে সারা দেশ, এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে একটা নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। সরকারি আইন অনুযায়ী সিনেমা প্রদর্শন নিষিদ্ধ নয়। এখানে সরকারি আইন অমান্য হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানান, সিনেমা প্রদর্শনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আপাতত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদর্শনী বন্ধ থাকবে।
এদিকে, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য দায়িত্ব জ্ঞানহীন এবং অসহায়ত্বের প্রকাশ-দাবি সচেতন মহলের। এ ঘটনার প্রতিবাদে এমপি ব্যারিষ্ট্রার রুমিন ফারহানার নেতৃত্বে আজ ১ জুন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কাজে সরকারের মদদ আছে বলেও মন্তব্য করেছেন বক্তারা।