| শিরোনাম |
❒ শিল্পচেতনা ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান
❒ লাল মাটির শিল্পী সমীর মজুমদারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ছবি:
বাংলার লাল মাটি, কৃষকের জীবনসংগ্রাম এবং প্রগতিশীল শিল্পভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতিভূ চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর সমীর মজুমদারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামে দিনব্যাপী স্মরণানুষ্ঠান, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) দুপুর ১টায় শিল্পীর জন্মভিটায় তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমীর মজুমদারের সহধর্মিণী বিপুলা রানী মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সমালোচক রেজাউর রহমান সবুজ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রেজাউল হক, চিত্রা থিয়েটারের সভাপতি সৈয়দ ওসমান আলী, স্বপ্না রায়, লেখক ও চিন্তক ড. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ, পটুয়া শিল্পী নিখিল চন্দ্র দাস এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পবান্ধব খবির সিকদার।
বক্তারা বলেন, সমীর মজুমদার ছিলেন এমন এক শিল্পী, যিনি শিল্পকে মানুষের জীবন ও সংগ্রামের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর তুলিতে ফুটে উঠেছে বাংলার কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষের জীবন, গ্রামীণ জনপদের বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঞ্চিত মানুষের স্বপ্ন ও প্রতিরোধের গল্প। তিনি কেবল একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক সংগ্রামী, যিনি শিল্পকে মানুষের মুক্তি ও মানবিকতার ভাষা হিসেবে দেখতেন।
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ শিষ্য হিসেবে প্রায় ৫৬ বছরের শিল্পসাধনায় সমীর মজুমদার নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্যে লোকজ ঐতিহ্য, শ্রেণিসচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর শিল্পকর্ম প্রশংসিত হয়েছে এবং শিল্পশিক্ষা বিস্তারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
বক্তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সমীর মজুমদারের মতো নিবেদিতপ্রাণ একজন শিল্পীর অবদান এখনও যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। তাঁর শিল্পকর্ম, স্মৃতি ও আদর্শ সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি গবেষণা, সংরক্ষণ ও প্রকাশনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভা থেকে আগামী বছরগুলোতে আরও বৃহত্তর পরিসরে “সমীর মজুমদার স্মরণমেলা” আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্মৃতি সংগ্রহশালা ও শিল্পচর্চা কেন্দ্র সংরক্ষণ ও বিকশিত করার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ৩১ মে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সমীর মজুমদার মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে তাঁর শিল্পকর্মে আজও বেঁচে আছে বাংলার লাল মাটি, কৃষকের ঘাম, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই সমীর মজুমদারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর অসমাপ্ত শিল্প ও মানবিক স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।