মঙ্গলবার , ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ দোলনা থেকে পড়ে আহত কিশোর পিয়াসকে বাঁচানো যায়নি

যশোরে ৫ দিনে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু

❒ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর, আহত অন্তত ৬

প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মে , ২০২৬, ০৯:০০:০০ পিএম
স্বর্ণলতা নিউজ:
Shornolota_2026-05-31_6a1c5b53dcd8f.jpg

❒ দোলনা থেকে পড়ে আহত কিশোর পিয়াসকে বাঁচানো যায়নি ছবি:

যশোরে গত পাঁচ দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা, বিষাক্ত তরল পান, দোলনা থেকে পড়ে আহত হওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুসহ বিভিন্ন ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১০ মাস বয়সী এক শিশু, এক গৃহবধূ, এক তরুণী ও এক কিশোর।

সর্বশেষ রোববার (৩১ মে) যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মাস বয়সী শিশু নাজমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

মৃত নাজমা যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার নুর ইসলামের মেয়ে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৭ মে থেকে সে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। রোববার তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, নিচে নামানোর সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মী শিশুটির নাকে লাগানো অক্সিজেনের পাইপ খুলে বড়দের ব্যবহৃত একটি অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেন। এরপরই তার অবস্থার অবনতি ঘটে। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় অচেতন হয়ে পড়লে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির বাবা নুর ইসলাম দাবি করেন, অক্সিজেন সরবরাহের পদ্ধতি পরিবর্তন না করা হলে হয়তো তার মেয়ের মৃত্যু হতো না। অভিযোগের জেরে কয়েকজন স্বজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেও পরে তারা মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

এর আগে গত ২৬ মে সন্ধ্যায় যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়া এলাকায় একটি মোটরভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। এতে মোটরভ্যানে থাকা কাকলি সুলতানা (২৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের স্ত্রী।

অন্যদিকে, পারিবারিক কলহের জেরে গত ২৯ মে রাতে টয়লেট পরিষ্কারক তরল পান করেন মরিয়ম (২৫) নামে এক গৃহবধূ। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মরিয়ম সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ইসলামের স্ত্রী।

একই দিন সদর উপজেলার পাগলাদাহ গ্রামের পিয়াস (১৬) নামে এক কিশোরেরও মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে বিকেলে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে রশির দোলনা থেকে পড়ে আহত হয় সে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও রোববার দুপুরে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পিয়াস মিজানুর রহমানের ছেলে।

এদিকে ২৭ মে সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাগডাঙ্গা ইটভাটার সামনে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও গরুবাহী নসিমনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মজনুর রহমান (৪৫) ও দুলাল (৪০) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মজনুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এছাড়া রোববার দুপুরে যশোর-চৌগাছা সড়কের আব্দুলপুর বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চার যুবক আহত হন। আহতরা হলেন সুরত গাজী (৩০), শফিকুল (২৩), সাব্বির (১৯) ও রাব্বী (১৯)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক ঘটনাগুলোর বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝