| শিরোনাম |
❒ উড়ে গেছে ঘরের টিন, বিদ্যুৎ নেই ২০ হাজার গ্রাহকের বাড়িঘরে
❒ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ভেঙে পড়া তালগাছের চাপায় শিশু শারমেরন মর্মান্তিক মৃত্যু ছবি:
সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। বাড়ির পাশে খেলছিল ৯ বছরের শিশু শারমিন। হঠাৎ মেঘের গর্জন, দমকা হাওয়া আর কালবৈশাখীর তাণ্ডব। মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়ে একটি বড় তালগাছ। সেই গাছের নিচেই চাপা পড়ে প্রাণ হারায় শিশুটি। শুধু শারমিনই নয়, ঝড়ের এই তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ। উড়ে গেছে অসংখ্য ঘরের টিনের চালা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি, আর বিদ্যুৎহীন হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক।
এরপর মূল অংশে যেতে পারো—
ঈশ্বরীপুর গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে শারমিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জিয়াউর রহমান জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
একই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকা। ঝড়ের তীব্রতায় একাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ও মোকছেদ গাজী জানান, মুহূর্তের মধ্যে তাদের ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। নিজেদের সামর্থ্যে ঘর মেরামত করাও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা।
কালবৈশাখীর আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে ১১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ৩৬টি খুঁটি হেলে পড়েছে, ১৯২টি স্থানে তার ছিঁড়েছে, ২৭টি ক্রসআর্ম ভেঙেছে এবং অন্তত ২৩০টি মিটার নষ্ট হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২৭৫টি স্পটে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সাড়ে ৬ লাখ গ্রাহকের মধ্যে এখনও ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভও বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। শ্যামনগরে ‘শ্যামনগরবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, দিনের বড় একটি সময় লোডশেডিংয়ে কাটছে। এমনকি দুর্ভোগের সময়েও পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সরকারি নম্বরে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে কলারোয়া, আশাশুনি ও তালা উপজেলাতেও ঝড়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গাছ থেকে প্রচুর আম ঝরে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি ও ফসল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
উপকূলের মানুষের অভিযোগ, প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে। আর কালবৈশাখীর মতো আকস্মিক ঝড় এলেই আতঙ্ক, ক্ষতি আর অনিশ্চয়তা যেন তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শারমিনের মৃত্যুর শোক আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে আছে সাতক্ষীরার উপকূল।