| শিরোনাম |
❒ রডবোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে
❒ মান্দার বাড়ি এলাকারই ১০ জন নিহত, শোকের ছায়ায় ঢেকে গেছে গোটা উপজেলা
❒ স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস ছবি:
ঈদযাত্রার পথে ঝরে গেল ১৫ জনের প্রাণ। নিহতদের মধ্যে একই এলাকার ১০ জন। নওগাঁর মান্দার ভারশোঁ ইউনিয়নের গ্রামগুলোজুড়ে এখন শোকের ছায়া, স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। এদিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দাবি করেছেন, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে চালকের ভুলে।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সারতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ১৫ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা সবাই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সাতজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আব্দুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), মাইনুর ইসলাম (৩০) ও সাগর হোসেন (২০)। এছাড়া পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫) নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতরা সবাই ফেরিওয়ালা ছিলেন। তাঁরা সাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্লাস্টিক পণ্য বিক্রি করতেন। পাশাপাশি নারীদের চুল ও পুরোনো মোবাইল ফোন সংগ্রহের কাজও করতেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাঁরা রাজশাহীগামী ওই রডবোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। অতিরিক্ত বাসভাড়া এড়াতেই অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের ফিরোজ হোসেন বলেন, উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে এ এলাকার শতাধিক যুবক ব্যবসা করেন। ঈদের সময় বাসে বাড়ি ফিরতে জনপ্রতি প্রায় দুই হাজার টাকা ভাড়া লাগে। এ কারণে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে বাড়ি ফেরেন।
একই ঘটনায় সাতজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন। একমাত্র মেয়ে রাহী মনিকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। সাবিনা বলেন, বাড়ি ফেরার পথে স্বামীর সঙ্গে শেষবার রাত ১০টার দিকে কথা হয়েছিল। মেয়ের জন্য নতুন জামা আর মেহেদি কেনার কথাও বলেছিলেন বাদশা। সকালে আসে মৃত্যুর খবর।
দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি এটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, নিহত সবার পরিচয় এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।