| শিরোনাম |
❒ পাইকগাছায় ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় গায়ের জোরে পোল্ট্রি ফার্ম ছবি:
পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের উত্তর সলুয়া এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্মকে ঘিরে চরম জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই খামার থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ, বর্জ্য ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাপন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই নাকে কাপড় চেপে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খামার থেকে নির্গত মুরগির বিষ্ঠা ও পচা বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ না করায় আশপাশের ড্রেন ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর ফলে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে এবং সন্ধ্যার পর ঘরে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও দাবি তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গৌর কর্মকার ও তার ছেলে সজল কর্মকার একটি পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে ফার্মটি গড়ে তোলা হলেও পরিবেশগত কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক রামপ্রসাদ কর্মকার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী দুর্ভোগে আছে। সমাধান না পেয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ করেছি।”
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্যানিটারি ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে উপজেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা উদয় মণ্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সাংবাদিক রামপ্রসাদ কর্মকার অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং হয়রানির চেষ্টা চলছে। এমনকি উল্টো তাকে ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের পোল্ট্রি ফার্ম শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিযোগকারী সাংবাদিক রামপ্রসাদ কর্মকার। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত গৌর কর্মকার ও সজল কর্মকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।