| শিরোনাম |
❒ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের দাবি
❒ সাড়াপোলের আজিজুলের বিষমুক্ত আম বাগানে ছুটছেন অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা
যশোরের বাজারে এখন মৌসুমি আমের বাহারি সমারোহ। আম-কাঁঠাল ও লিচুসহ হরেক রকমের চকচকে হলুদ রঙের ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেক দোকানি। তবে এই আকর্ষণীয় রঙের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি—এমন অভিযোগ করছেন সচেতন ক্রেতারা। বাজারজুড়ে যখন কার্বাইড ও বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম-কাঠাল ও লিচুর কাপানোর দাপট, তখন যশোর সদরের সাড়াপোল এলাকায় আজিজুল ইসলামের বাগানের গাছপাকা বিষমুক্ত আম হয়ে উঠেছে ভরসার নাম। তবে সরেজমিনে গিয়ে যশোর শহরের বেশকিছু ফল দোকানির সাথে কথা হয়েছে। তাদের দাবি ফলে রঙ আনতে কিছু কেমিক্যাল মেশানোর অভিযোগ তারাও পাচ্ছেন। তবে এসব ফল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না-এমন দাবি তাদের।
সাড়াপোলে আজিজুলের বাগানের আম
সাড়াপোলের নিরিবিলি মাছ হ্যাচারির পাশের ওই বাগানে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা। বাগান মালিক আজিজুল ইসলাম জানান, তিনি ক্রেতাদের সামনেই গাছ থেকে আম পেড়ে বিক্রি করছেন। দামও বাজারের তুলনায় কম। তার বাগানের ল্যাংড়া ও হিমসাগর আমে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
ফল বিক্রেতা আরমান মিয়া ও আব্দুল গফুর জানান, বাজারে এখন অধিকাংশ আমই শুধু নয়, কাঁঠাল ও লিচুসহ মৌসুমে ফল কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে বাজারে তোলা হচ্ছে। এসব কেমিক্যাল ও বিষমেশানো ফল খেয়ে অনেকে পেটের পিড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করার পর তারা সাড়াপোলে আজিজুল ইসলামের বাগান থেকে সরাসরি আম কিনে বিক্রি করছেন। তবে এখনো লিচু ও কাঁঠাল বাগান থেকে কিনে বিক্রির সুযোগ হয়নি। তাদের ভাষায়, “বিষমুক্ত আম খেতে হলে মানুষকে একটু কষ্ট করে হলেও বাগানে যেতে হবে।”
এদিকে যশোরের বিভিন্ন বাজারে কৃত্রিমভাবে পাকানো আমের সরবরাহ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে শার্শার বাগুড়ী বেলতলাসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে মৌসুম শুরুর আগেই আম চলে আসছে। অধিক মুনাফার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কার্বাইড ও ইথ্রেলের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ব আম পাকিয়ে বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রাসায়নিকযুক্ত ফল নিয়মিত খেলে লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অভয়নগরের বাসিন্দা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “মৌসুমি ফলে বাজার সয়লাব হলেও বেশিরভাগ ফলই এখন বিষে ভরা। পুষ্টির বদলে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বাজার থেকে ফল কিনে সঙ্গে সঙ্গে না খেয়ে আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। ভিনিগার মিশ্রিত পানিতে রাখলেও কিছুটা ফরমালিন দূর করা সম্ভব।”
ঝিকরগাছার ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা বলেন, “রমজান মাসে ফলের দোকানে মোবাইল কোর্টের তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু বছরের অন্য সময় বাজার তদারকি প্রায় থাকে না। সারা বছরই যেন বিষমুক্ত ফল বিক্রি নিশ্চিত করা হয়, সেটি প্রশাসনকে দেখতে হবে।”
ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম পাকানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও অনেক ব্যবসায়ী তা মানছেন না। তাই বাজারগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম কেনার সময় অতিরিক্ত উজ্জ্বল হলুদ রঙ, কালচে বোঁটা কিংবা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে সতর্ক হতে হবে। প্রাকৃতিক ঘ্রাণ ও স্বাভাবিক রঙের আম কেনাই নিরাপদ।
এ বিষয়ে যশোর শহরের চৌরাস্তা, দড়াটানা, কাঠেরপুল এলাকা ও মনিহার সংলগ্ন এলাকার বেশ কয়েকজন ফল বিক্রেতা বিষ মেশানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন-ক্ষতিকর বিষ না, তবে ফলে রঙ আনতে কিছু কেমিক্যাল ব্যবহারের কথা তারা শুনেছেন। যেহেতু তারা কিনে বিক্রি করছেন, তাই সরবরাহকারীদের কথা বিশ্বাস করেই ক্রেতাদের আশ্বস্ত করছেন। তারাও মনে করেন-পরীক্ষার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার করা উচিত।