| শিরোনাম |
❒ শিল্পকলা একাডেমি হোক তরুণ শিল্পীদের মঞ্চ-নিতাই রায়চৌধুরী
❒ যশোরে সংস্কৃতি চর্চায় নতুন বার্তা নিতাই রায় চৌধুরীর ছবি:
যশোরকে ‘সংস্কৃতির আতুড়ঘর’ আখ্যা দিয়ে পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল ও আধুনিক করার উদ্যোগের কথা বলেছেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী। রোববার সকালে তিনি যশোর শিল্পকলা একাডেমি, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন ক্লাব পরিদর্শন করে সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘যশোর সংস্কৃতির আতুড়ঘর। আমি নিজেও যশোরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীও এই যশোর ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছিলেন। সেই দায়িত্ববোধ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আজকের এ সফর।’
তিনি বলেন, ‘যশোর ইনস্টিটিউট ও বর্তমান প্রজন্মকে পাঠাগারমুখী করতে আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করবো। দীর্ঘদিন সংস্কৃতি চর্চায় আমরা পিছিয়ে পড়েছি। এখন আবার সেই কাজ এগিয়ে নিতে চাই।’
মন্ত্রী জানান, পাঠাগারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বইয়ের সংগ্রহ বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন এবং তরুণদের আকৃষ্ট করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরির বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম গতিশীল করতে বরাদ্দ ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি।
যশোরের জেলা প্রশাসক ও যশোর ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ইনস্টিটিউটের দাবিগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় ইতোমধ্যে বড় একটি সুখবর দিয়েছেন। আমরা ভালো কিছু আশা করছি।’
তিনি জানান, পাঠাগারের পুরনো ভবন সংস্কার, পাঠকক্ষ সম্প্রসারণ, শিশু-কিশোর কর্নার এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।
সকালে যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে পৌঁছে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ কোর্স, নাটক, সংগীত ও চিত্রকলা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির বই সংগ্রহ, পাঠক উপস্থিতি ও অবকাঠামোগত সমস্যা ঘুরে দেখেন। টাউন ক্লাবেও সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সংস্কার নিয়ে কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কৃতি ছাড়া একটি জাতি এগোতে পারে না। যশোরের মাটি বহু গুণীজন, শিল্পী ও সাহিত্যিকের জন্ম দিয়েছে। তরুণদের আবার বই ও সংস্কৃতির কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সালেক, সহসভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলুসহ স্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
তারা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম সংস্কার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আধুনিক রিডিং জোন স্থাপনের দাবি জানান। মন্ত্রী আশ্বাস দেন, দাবিগুলো যাচাই করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই পাঠাগার শুধু বইয়ের ঘর না হয়ে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার কেন্দ্র হোক। শিল্পকলা একাডেমি হোক তরুণ শিল্পীদের মঞ্চ।’