| শিরোনাম |
❒ সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বী ছবি:
যশোরের বেনাপোলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক জিসান আহম্মেদ রাব্বীর ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী শাহাদুর রহমান খোকনের ছেলে জিসান আহম্মেদ রাব্বী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর এশিয়ান টিভিতে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে পারিবারিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার দায়িত্ব নিতে তিনি বেনাপোলে ফিরে আসেন এবং বাংলা নিউজ ২৪ ডট কমের বেনাপোল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি পারিবারিক ব্যবসাও পরিচালনা করতেন।
সম্প্রতি আমড়াখালী এলাকার হক ফিলিং স্টেশনে ট্রাকের তেল নেওয়ার সিরিয়াল নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। এরপরই ওই ঘটনায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে পান্তাপাড়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম রাজু, মান্দারতলা গ্রামের আব্দুল্লাহ, কাগমারি আমড়াখালী গ্রামের হাসান, আজগর আলীর ছেলে মোস্তাক, ইউনুস আলীর জামাতা হাসান ওরফে ঘরজামাই হাসানসহ ৮–১০ জন। তারা জিসানকে মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং তার কাছ থেকে ৬৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ট্রান্সপোর্ট স্টাফ সোহাগ হোসেন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা রেকর্ড করে, যার নম্বর ১৪/২৬, তারিখ ২২-০৪-২৬। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মিলন হোসেনকে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও অগ্রগতি হয়নি এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তদন্ত কর্মকর্তা বাদী ও সাক্ষীদের হয়রানি করছেন এবং আসামিদের জামিন পেতে সহায়তার অভিযোগও উঠেছে। ফলে আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং জিসান ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এসআই মিলন হোসেন বলেন, তিনি মামলার তদন্ত করছেন। আসামিরা আদালত থেকে জামিনে রয়েছে, তাই গ্রেপ্তার সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।