| শিরোনাম |
❒ ডিএমপির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম
❒ ডিএমপির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম ছবি:
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মূলত এলাকায় আধিপত্য ও হাটের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
আজ বুধবার বিকেলে ডিএমপির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টিটন নিজেও একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত করছি। এরই মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।’
মামলার এজাহারে মোহাম্মদপুরের বছিলার গরুর হাট নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং পিচ্চি হেলাল, কাইল্লা বাদলসহ অনেকের নাম উল্লেখের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘মামলা হয়েছে। বাদী যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, আমরা তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছি। আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। আপনারা জানেন সামনে কোরবানি, গরুর হাটের ইজারা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, সেটি উদ্ঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি। হাটকে কেন্দ্র করে যেন কোনোভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানো হবে।’
বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে ডিবির প্রধান বলেন, অতীতে এমন কর্মকাণ্ড অনেকেই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের ব্যাপারে ইন্টারপোলে চিঠি দেওয়া হবে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী টিটননিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী টিটন
প্রসঙ্গত, গতকাল রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। মুমূর্ষু অবস্থায় কয়েকজন তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন দীর্ঘ কারাবাসে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। তিনি রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জামিনে মুক্তির পর আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক ছিলেন টিটন।