রবিবার , ১৭ মে ২০২৬ , ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ দেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় টিটনের নাম ছিল দুই নম্বরে

ঢাকায় নিহত খড়কির টিটন ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

❒ অপরাধ সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব নাকি পুরোনো শত্রুতার প্রতিশোধ-খতিয়ে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬, ০২:৫১:০০ পিএম
স্বর্ণলতা ডেস্ক:
Shornolota_2026-04-29_69f1fee9119c1.JPG

❒ ঢাকায় নিহত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যশোর খড়কির টিটন ছবি:

ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত যশোর খড়কির নাইমুর হাসান টিটন (৫৭) ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী।  ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড হয়। ছিলেন কাশিমপুর কারাগারে। ২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি জামিনে বেরিয়ে ফের অপরাথ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিলেন। এদিকে তাকে হত্যার পর একাধিক কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপরাধ সাম্রাজ্যের আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, পুরনো শত্রুতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রমতে- টিটনের সঙ্গে তার বোনের জামাই আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের দীর্ঘদিনের বিরোধও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং হত্যার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রমনা পুলিশ বলছে, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। অপরাধ সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব বজায় রাখার কারণেই এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, একটি মোটরসাইকেলে আসা দুইজন টিটন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। একজন মোটরসাইকেল চালক এবং অপরজন টিটনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে হত্যাকারীরা পেশাদার খুনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, টিটনের সঙ্গে তার বোন জামাই আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ বিরোধও সংশ্লিষ্ট কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক সময় ইমন-টিটন এক গ্রুপেই ছিলেন। এই গ্রুপের অপরাধ জগতের প্রধান ছিলেন টিটন। কারাগারে থাকা অবস্থায় দুইজনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এরপর তাদের সম্পর্ক ভয়ংকর শত্রুতায় রূপ নেয়। এর একটি প্রধান কারণ অপরাধ সাম্রাজ্যের আধিপত্যের কর্তৃত্ব।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে আইন-শৃঙ্খলায় শিথিলতায় আইনের ফাঁক গলে ইমন এবং টিটন দুজনই কারাগার থেকে মুক্তি পান। ইমন তার এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিলেও টিটন এলাকায় প্রবেশ করতে পারতেন না।

টিটনের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ছোট ভাই ও কুখ্যাত গ্যাংস্টার তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বড় ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যাকাণ্ডে টিটনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে টিটন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে তার বড় ভাই সাজিদ আহমেদ রিপন যশোর থেকে ঢাকায় পৌঁছে নিউমার্কেট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে অজ্ঞাতনামা ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেটের বটতলার শহীদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেলে এসে হত্যাকারীরা টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি প্রথমে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা একজন কাছে গিয়ে আবারও তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার সময় হত্যাকারীদের স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এরই মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে টিটনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সূত্র জানায়, টিটনের মাথাসহ শরীরে সাতটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছয়টি বেরিয়ে গেলেও বুকে একটি গুলির অংশবিশেষ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিটনকে ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইনের ফাঁক গলে তিনি ১২ আগস্ট কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর টিটন আর আদালতে হাজিরা দেননি। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছিল।

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে টিটন অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। ২০০১ সালে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ হয়, সে তালিকায় টিটনের নাম দুই নম্বরে ছিল। তিনি ও তার ভগ্নিপতি সানজিদুল ইসলাম ইমন দুজনই শুরুর দিকে মোহাম্মদপুরের হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন। পরে তারা দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে যান।

ইমন-টিটনের তৎপরতা ছিল ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায়। টিটন একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া তিনি অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। মোহাম্মদপুরে টিপু ও অশ্রু হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন তিনি।

 

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝