| শিরোনাম |
❒ ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা
❒ ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা ছবি:
অতীতে জ্বালানি মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়ার কারণে বর্তমানে জনগণ সরকারের দেওয়া তথ্য বিশ্বাস করছে বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম। তিনি বলেন, বিগত সময়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন(বিপিসি) ৩ হাজার কোটি টাকার নিচে মুনাফা করেনি। সেই হিসেবে গত দশ বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে বিপিসি মুনাফার এই টাকা বিপদের জন্য না রেখে সরকার অন্য খাতে নিয়ে গেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আমদানিকারক দেশ হিসেবে আমরা সংকটে পড়েছি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূর্বের নীতির সংশোধন প্রয়োজন।
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে আমাদের মাত্র ২ দিনের জ্বালানি মজুদ ছিলো। এখন ৭ থেকে ১৫ দিনের মজুদ থাকার পরেও আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রোল—অকটেন কিনছে। অথচ দেশে ডিজেল নিয়ে বড় সংকট হবার কথা।
তবে দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকার জ্বালানির দাম বাড়ালে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এসময় তিনি বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনে নেতৃত্বের ব্যর্থতা ছিলো। সে ব্যর্থতার মাশুল এখন জনগণ ভোগ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারও জ্বালানি সক্ষমতা স্থিতিশীল রাখতে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কুইক রেন্টালের নামে ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা করা জরুরি। আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি ছিলো একপাক্ষিক। এতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি। আওয়ামী সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তিগুলো পুন:মূল্যায়ন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা হবে অন্যায্য। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে কোন কুচক্রী মহল যাতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে না পারে তার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে ‘অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমেই জ্বালানি সংকট মোকাবেলা সম্ভব’ শীর্ষক ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিকে পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ, সাংবাদিক রিশান নসরুল্লাহ, সাংবাদিক আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক জাফর ইকবাল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।