| শিরোনাম |
❒ হামের ভয়াবহ বিস্তার: ৫৬ জেলায় সংক্রমণ
❒ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কক্সবাজার, বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটো
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৬ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৭৮৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে, আর আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে—যা জনস্বাস্থ্য সংকটের বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৭৬ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮২৬ জন।
মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একদিনে ৪ জনসহ মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে, যার মধ্যে ১৬ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে গত ১৯ দিনে বিভিন্ন হিসাবে ৯৪ জনের মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই নির্দেশ করে।
হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২ হাজার ৬৫৪ জন।
বিভাগভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিভাগ—এখানে আক্রান্ত ২,০৪৫ জন। এছাড়া রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগেও উল্লেখযোগ্য হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতে সাধারণ জ্বর-ঠান্ডা মনে হলেও পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ায় অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
ইতোমধ্যে কক্সবাজার, বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলাকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ কয়েকটি এলাকায় হটস্পট ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উচ্চঝুঁকির এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাদান, আক্রান্ত শনাক্তকরণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে হামের এই প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।