| শিরোনাম |
❒ স্ত্রী-সন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন পরিবার
❒ স্ত্রী-সন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন পরিবার ছবি:
যশোর কারাফটকে শেষ বারের মতো মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখে হাউ হাউ করে কাঁদেন বন্দী বাগেরহাটে ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। কিন্তু তাকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন ঘিরে দ্বন্দ্ব তৈরি হলো প্রশাসন ও বাবার পরিবারে। বিষয়টি নিয়ে যখন তামাম দুনিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে ঠিক তখন এলো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বাগেরহাট ডিসির পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। এনিয়ে ফের নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সর্বমহলে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের (সাদ্দাম) স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তানের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে পরিবার কী জানিয়েছে তা নিয়েই দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তাদের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সাদ্দামের পরিবার যশোর জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিবারের মৌখিক অনুরোধের ভিত্তিতে মানবিক কারণে কারাফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তবে আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন গণমাধ্যমেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু যশোর কারাগারে থাকায় আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের সেই দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসক বলেন, “প্যারোলের জন্য আবেদন আসলেও যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে করতে হবে—এটাই নিয়ম।”
এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সাদ্দাম কারাফটকে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখেন। পরিবার এবং প্রশাসনের এই তথ্যের বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে, যেখানে স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা এবং সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফ-এর দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।