| শিরোনাম |
❒ যা বলছেন খুচরা বিক্রেতা-ক্রেতা
❒ ফাইল ছবি:
যশোরের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা দিনের পর দিন বাড়ছে। পেঁয়াজে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। প্রতি কেজি ৭০ টাকা থেকে বেড়ে কেজি ঠেকেছে ১০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন-পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে। একইভাবে টমেটোর কেজি ১০০ টাকা—যা ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বছরের ব্যবধানে ৪৭ টাকা কেজির মোটা চাল ধীরে ধীরে বেড়ে এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু চাল ৬২ টাকা থেকে লাফিয়ে ৮৫–৯০ টাকায় পৌঁছেছে। ভারত থেকে চাল–পেঁয়াজ আমদানি কমে যাওয়াই বাজার অস্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, সয়াবিন তেলের দামও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। আগে লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা থাকলেও এখন তা ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য ছিল ১৯০ টাকা, কিন্তু আমদানিকারকরা আরও ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, “আমি তো দাম বাড়াইনি, ব্যবসায়ীরাই বাড়িয়েছে!” তার এই মন্তব্যে সাধারণ ক্রেতাদের হতাশা আরও বেড়েছে।
বাজারে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন—পাইকারি দামের চাপে তাদেরও ভেসে যেতে হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “পাইকারিতে প্রতিদিন নতুন দাম আসে। আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”
আরেকজন আদিল হোসেন বলেন, “সবজির বাজার মোটামুটি ঠিক। কিন্তু চাল–তেল–পেঁয়াজ–টমেটো সব মিলিয়ে বাজারটা আগুন।”
ক্রেতারা বলছেন—বাজার নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে।
ক্রেতা শাহানা আক্তার বলেন, “চালের দাম, তেলের দাম—সব কিছুই বাড়ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
আরেক ক্রেতা ইউসুফ আলী বলেন, “সিন্ডিকেট ছাড়া এভাবে দাম বাড়তে পারে না। নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই।”
ভোক্তা অধিকার অভিযানে বাজার কিছুটা নড়লেও স্থিতিশীল করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বাজার মনিটরিং বৈঠকে বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিজেরাই জানিয়েছে—পেঁয়াজের মজুত আছে। তাহলে দাম কেন বাড়ছে?”
তিনি মনিটরিং আরও জোরদারের নির্দেশ দিলেও বিক্রেতারা তাতে দমে যায়নি। বিভিন্ন মহল অভিযোগ করছে—বাজারে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়, তারাই দাম বাড়িয়ে চলেছে।