মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ তৃপ্তি সংস্কারপন্থী,ছিলেন সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিস্ক্রিয়-দাবি দলীয় নেতাকর্মীদের

যশোরের শার্শা আসনে বিএনপির প্রার্থী বদলের দাবি, ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের
প্রকাশ : সোমবার, ১০ নভেম্বর , ২০২৫, ০৭:০৩:০০ পিএম , আপডেট : সোমবার, ১০ নভেম্বর , ২০২৫, ০৮:১৭:৪০ পিএম
স্বর্ণলতা নিউজ:
Shornolota_2025-11-10_6911f40370a84.jpg

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
তরুণ ত্যাগী নেতা ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান লিটনকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সংস্কারপন্থি নিষ্ক্রিয় নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। ওই তালিকায় নুরুজ্জামান লিটনের নাম না থাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছেন।

কঠিন সময়ের কান্ডারি নুরুজ্জামান লিটন

স্থানীয় নেতারা জানান, নুরুজ্জামান লিটন ছিলেন বিএনপির সংকটময় সময়ের কান্ডারি। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৩০টিরও বেশি মামলা—ঢাকার নাশকতা, গাড়ি পোড়ানোসহ যশোরের একাধিক মামলা। বহুবার কারাবরণ ও রিমান্ড ভোগ করলেও দলত্যাগ বা আপস করেননি তিনি। গত ১৭ বছর ধরে মাঠে থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন লিটন।

ছাত্রজীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম থেকেই তার রাজনীতির শুরু। ১৯৮৮ সালে ছাত্রদলে যোগ দিয়ে পরের বছরেই শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ ও ১৯৯৭ সালে দু’বার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
২০০৩ সালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য এবং পরবর্তীতে খুলনা বিভাগীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিশেষ করে ২০২০ সালে তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি খুলনা বিভাগের প্রতিটি উপজেলায় যুবদল পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেন। করোনাকালীন সময়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও সংগঠনের পাশে ছিলেন তিনি।
২০২২ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি হন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি—এখনও সেই দায়িত্বে আছেন।

তৃণমূলে লিটনের পক্ষে ঢল

দিঘীরপাড় এলাকার প্রবীণ নেতা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “নুরুজ্জামান লিটন দলের নিবেদিতপ্রাণ, ক্লিন ইমেজের নেতা। তাকে বাদ দিয়ে শার্শায় বিজয় সম্ভব নয়। আমরা চাই তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হোক।” পুতাপাড়া এলাকার কৃষক সাইদুজ্জামান বলেন, “লিটন ভাই ব্যক্তিস্বার্থ নয়, আদর্শের জন্য রাজনীতি করেন। তাকে বাদ দিলে দলেরই ক্ষতি হবে।” বেনাপোল পৌর এলাকার গৃহবধূ সুরাইয়া খাতুন বলেন, “তিনি গরীব-অসহায় মানুষের পাশে থাকেন সবসময়। তার নাম না থাকায় আমরা হতাশ হয়েছি।” উলাশী এলাকার কৃষক সামছুদ্দিন মিয়া বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আমরা শুধু লিটন ভাইকেই দেখেছি। শার্শায় তার বিকল্প নেই।”

শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, “লিটন ভাই মাঠ পর্যায়ের প্রাণভোমরা। তার নেতৃত্বেই আমরা টিকে আছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত তৃণমূলে বাস্তবতা বোঝা।”

লিটনের প্রতিক্রিয়া

শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন বলেন, “আমি দলের দুর্দিনে ১৭ বছর রাজনীতি ধরে রেখেছি। ৩০টিরও বেশি মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছি, বহুবার জেলে গেছি—তবু দল ছাড়িনি।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান মনোনয়নটি প্রাথমিক। আমি বিশ্বাস করি তারেক রহমান ভাই এটি রিভিউ করবেন। প্রার্থী যাকে দেওয়া হয়েছে, তিনি সংস্কারপন্থি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন মাঠে ছিলেন না। নেতাকর্মীরা শান্ত আছেন, আমি সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছি।”

খোঁজখবর করে জানা গেছে- শার্শায় নুরুজ্জামান লিটন কেবল তৃণমূলের প্রিয় মুখই নন, তিনি বিএনপির দুর্দিনে সংগঠন ধরে রাখার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার বাদ পড়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের হতাশা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝