| শিরোনাম |
❒ সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে একে একে জলে ভাসানো হচ্ছে প্রতিমা; ভক্তদের কণ্ঠে অনুরণন—“আগামী বছর আবার এসো মা”
যশোরের লালদীঘি আজ যেন অশ্রু আর আনন্দে ভেজা এক আঙিনা। সন্ধ্যার পর থেকে একে একে প্রতিমা এসে জমা হচ্ছে লালদীঘির তীরে। ঢাকের বাজনা, শঙ্খের ধ্বনি, উলুধ্বনির সাথে মিলেমিশে ভেসে আসছে ভক্তদের কান্নাভেজা বিদায়ের সুর। নিরঞ্জনের শেষ আনুষ্ঠানিকতায় লালদীঘির জল আজ পূর্ণ হয়েছে আবেগ, উৎসব আর বেদনার এক অপূর্ব মিশেলে।
বিসর্জন পূর্ব আলোচনা সভায় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্মৃতিমুগ্ধ কণ্ঠে বলেন, “২০০৪ সালে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম এখানে নিরঞ্জনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিলেন। ২১ বছর পর তা আজ পূর্ণতা পেয়েছে এক মহোৎসবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতির সৌন্দর্য এখানেই—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। এবারের দুর্গোৎসবে বিএনপি নেতাকর্মীরা ১৬৫টি মণ্ডপে পাশে থেকেছে, যাতে আমাদের সনাতন ভাইবোনেরা নির্বিঘ্নে পূজা পালন করতে পারেন। এ উৎসব ঐক্যের, এ উৎসব ভেদাভেদ ভুলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিজ্ঞার।”
লালদীঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল হাজারো ভক্ত-দর্শক। শিশু, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ—সবাইয়ের চোখে এক অদ্ভুত আলো। কারও চোখ ভিজে এসেছে বেদনায়, আবার কারও ঠোঁটে ছিল উৎসবের হাসি। প্রতিটি প্রতিমা জলে ভেসে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিধ্বনিত হয়েছে একটাই আহ্বান—“মা, আগামী বছর আবার এসো।”
এ বছর যশোর জেলায় মোট ৭০৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপত্তায় ছিল পাঁচ স্তরের ব্যবস্থা, মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও।
শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী এসেছিলেন গজে—হাতির পিঠে, যা সমৃদ্ধি আর বৃষ্টি বার্তা দেয়। আর বিদায় নিচ্ছেন দোলায়—পালকিতে চড়ে। প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
আজ লালদীঘির জলে প্রতিমা ভাসলেও, মানুষের হৃদয়ে রয়ে গেল দেবীর আশীর্বাদ আর আগামী বছরের অপেক্ষা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম চলছিল। তবে খুব কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে-এমন প্রত্যামা পূজা উদযাপন কমিটির।