| শিরোনাম |
❒ যশোরের শিল্পনগরী নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীদের স্বস্তি প্রকাশ
❒ ফাইল ছবি:
যশোরের শিল্পনগরী নওয়াপাড়ার কুখ্যাত চাঁদাবাজ বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আসাদুজ্জামান জনি ও কামরুজ্জামান মিঠুকে শোন-অ্যারেস্টের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনজুমান আরা বেগম আবেদনের শুনানি শেষে চাঁদাদাবি ও মারপিটের মামলায় এই আদেশ দেন। এ খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নওয়াপাড়ার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
আসামি জনি গুয়াখোলা সুপারীপট্টি এলাকার কামরুজ্জামানের ছেলে, এবং মিঠু গুয়াখোলার মহিলা কলেজ রোড এলাকার মৃত জালাল উদ্দিন ওরফে মনিরুজ্জামানের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নওয়াপাড়ার বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বিদেশ যাওয়ার পর তার সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় থাকা আলমগীর হোসেনের প্রাপ্য টাকা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করলে গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় আসামি জনি, আলমগীরসহ কয়েকজন জাহাঙ্গীর হোসেনকে তার কাপড়ের দোকান থেকে কৌশলে ডেকে এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আটকে রাখেন। সেখানে তাকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করাতে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় তাকে মারপিট করে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয় এবং পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়।
এমনকি ৯ জুলাই রাতে জনি তার অফিসে ডেকে জাহাঙ্গীরকে তার বাড়ি আলমগীরের নামে লিখে দেওয়ার জন্যও চাপ দেন। বিষয়টি জনির পিতাকে জানালে তিনি ছেলের দাবি মেনে নিতে বলেন। জনির লোকজন পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। এসব ঘটনায় নিরুপায় হয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন অভয়নগর থানায় জনি, মিঠুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় জনি ও মিঠু ইতোমধ্যে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু বক্কার সিদ্দিক ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে তাদের শোন-অ্যারেস্টের আবেদন করেন। সোমবার শুনানি শেষে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে তাদের শোন-অ্যারেস্টের আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী সমিতির কয়েকজন সদস্য বলেন, “বিগত সময়ে জনি-মিঠুর দাপটের কারণে আমরা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পেতাম। আজ আদালতের এই আদেশের পর খানিকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।”
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমাদের উপর দীর্ঘদিন নিপীড়ন চলছিল। আদালতের শোন-অ্যারেস্টের মাধ্যমে আমরা আশা করি, কুখ্যাত চাঁদাবাজদের দাপট শেষ হবে।”
অন্য একজন কাপড় ব্যবসায়ী মঞ্জুর হোসেন বলেন, “এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীদের জন্য বড় বার্তা। আশা করি, কেউ আর কাউকে ভয় দেখাতে পারবে না।”