| শিরোনাম |
❒ যা ঘটলো, তা উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি
❒ দেশজুড়ে বাড়ছে প্রশ্ন—মব সন্ত্রাস ও রিমান্ড আতঙ্ক
বাগেরহাটে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় মোজাফফর (২৬) নামের এক আসামির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ বলছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মোজাফফরের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবার ও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি প্রকৃতপক্ষে স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু?
মোজাফফর রামপাল উপজেলার ভাগা এলাকার ওহাবের ছেলে।
কীভাবে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাখালগাছি এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরির সন্দেহে স্থানীয়রা মোজাফফরসহ ৪ জনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। চুরির মামলায় আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠান। পরে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তাঁদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
রিমান্ডে থাকার সময় শুক্রবার ভোরে মোজাফফর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আধঘণ্টা পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন-দাবি পুলিশের।
চিকিৎসকের বক্তব্য
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এস কে সোহেলুর রহমান বলেন-“পুলিশ যখন রোগীকে নিয়ে আসে, তখনই তাঁর অবস্থা সংকটজনক ছিল। ইসিজিতে গুরুতর হার্ট অ্যাটাক ধরা পড়ে। খুলনায় রেফার করার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।”
পুলিশের অবস্থান
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান,“মৃত মোজাফফরের নামে ৪টি মামলা রয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তবে দুপুর পর্যন্ত পরিবারের কোনো সদস্য হাসপাতালে আসেননি বলে জানান তিনি।
কেন প্রশ্ন উঠছে
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আটক ও রিমান্ডে মৃত্যুর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন,“রিমান্ডে মৃত্যু মানেই নির্যাতনের ছায়া। সরকারের উচিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্য প্রকাশ করা।”
প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—মোজাফফরের মৃত্যু কি সত্যিই হার্ট অ্যাটাকে, নাকি রিমান্ডের অন্ধকার কক্ষে ঘটেছে আরেকটি মৃত্যু?