| শিরোনাম |
❒ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম চিকিৎসার জন্য আবারও সিঙ্গাপুরে
❒ সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের চিকিৎসা বাস্তবতা আসলে দুই ভুবনের গল্প
❒ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম চিকিৎসার জন্য আবারও সিঙ্গাপুরে ছবি:
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম চিকিৎসার জন্য আবারও সিঙ্গাপুরে গেছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সফর এবং খরচ তিনি নিজেই বহন করছেন। কিন্তু প্রশ্নটা ব্যক্তিগত খরচ নয়—প্রশ্ন হলো, দেশের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা যদি নিজস্ব চিকিৎসার জন্য দেশের হাসপাতালকে ভরসা করতে না পারেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দৃশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের প্রভাবশালীরা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে বিদেশে ছুটছেন। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। তখন তাদের প্রতিশ্রুতি ছিল—“দেশে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা হবে, যাতে আর ভারতে বা সিঙ্গাপুরে দৌড়াতে না হয়।”
কিন্তু আজ এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি হাসপাতালে এখনো পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, চিকিৎসক সংকট প্রকট, আর রোগীদের দুর্ভোগ নিকটাতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। মা ও শিশু কল্যাণে গত ১ বছর ধরে ঔষধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র একই রকম। জেলা হাসপাতালগুলোতে একটার সরবরাহ থাকে তো, অপরটি পাওয়া যায় না। এটা তো নতুন বন্দোবস্ত হতে পারে না।
মানুষের ক্ষোভ
যশোরের একটি সরকারি হাসপাতালের রোগীর স্বজন বলেন, “আমরা ওষুধ কিনে আনি, স্যালাইন কিনে আনি, অথচ ডাক্তাররা সময় দেন না। অন্যদিকে, দেখছি স্বাস্থ্য উপদেষ্টা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেলেন। যদি নিজেরা দেশের হাসপাতাল ব্যবহার না করেন, তাহলে বুঝা যায় আমাদের স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা খুবই খারাপ অবস্থা, যা অন্তর্বতী সরকারের সাথে যায় না। রীতিমত প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ।
স্বাস্থ্য আন্দোলন কর্মী রাশেদা খাতুন কড়া ভাষায় বলেন, “এটা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়। নীতিনির্ধারকরা যখন বিদেশে চিকিৎসা করান, তখন তারা আসলে জনগণকে পরোক্ষভাবে বলছেন—বাংলাদেশে চিকিৎসা নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এটা জাতির জন্য লজ্জার।”
আস্থাহীনতার সংস্কৃতি
দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আস্থাহীনতার এই সংস্কৃতি ভেঙে না ফেললে স্বাস্থ্যখাতে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। সিঙ্গাপুর বা ভারত নয়, নীতিনির্ধারকদের উচিত প্রথমে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া। তাহলেই বাস্তব সমস্যা বোঝা যাবে এবং জনগণের আস্থা ফিরবে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আসা সরকার যদি জনগণের সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়, তবে প্রশ্ন উঠবেই—প্রতিশ্রুতির উন্নয়ন কোথায়? স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিদেশমুখী চিকিৎসা আবারও প্রমাণ করছে, সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের চিকিৎসা বাস্তবতা আসলে দুই ভুবনের গল্প।