| শিরোনাম |
❒ চাঁচড়া-রামনগরে চাষাবাদ বন্ধ, মজুরি ও মাছ ধরা হয়ে উঠেছে প্রধান জীবিকা
❒ রামনগরের খাল এবং জলমগ্ন কৃষিজমির দৃশ্য ছবি:
যশোরের চাঁচড়া ও রামনগর ইউনিয়নের হাজারো বিঘা কৃষিজমি বর্ষার পানিতে ডুবে গেছে। জিয়া খাল ও স্থানীয় খালগুলো ভরাট ও দখলের কারণে পানি ভবদহে প্রবাহিত হচ্ছে না। ফলে চাষাবাদ ব্যাহত, জীবনযাত্রা সংকুচিত, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। স্থানীয়রা দ্রুত খাল খনন ও কার্যকর পানি নিষ্কাশনের দাবি জানাচ্ছেন।
জলের নীচে জীবন
চাঁচড়ার বর্মনপাড়ার আতিকুর রহমান জানান-“আমাদের তিন ফসলী জমি সাত-আট মাস ধরে জলে ডুবে আছে। এখন জীবিকার জন্য মাছ ধরতেই দিন কাটছে।” তার পরিবারসহ সতিঘাটা, তোলাগোলদারপাড়া, বলাডাঙ্গা, কাজীপুর, কামালপুর, বাজুয়াডাঙ্গা, সিরাজসিংগার গ্রামবাসীরাও একই দুর্দশার মুখোমুখি।
জীবিকার পরিবর্তন
কৃষি বন্ধ হওয়ায় কেউ দিনমজুরি করছেন, কেউ রিকশা বা ইজিবাইক চালক। রামনগরের জিয়া, রাতুল ও স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বলেন, “যে জমিতে আগে চাষ হতো, এখন সেই জমিতেই মাছ ধরছি। গবাদীপশুর জন্য ঘাস না পেয়ে কচুরীপানা কেটে আনছি।”
প্রবীণদের ইতিহাস ও অভিমত
ষাটোর্দ্ধ নিকমাল হোসেন জানান, ১৯৮০-এর দশকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তেশ্বরী নদী ও খালের সংযোগের জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ভরাট ও দখলের কারণে নদী মৃতপ্রায়। জলাবদ্ধতার এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
স্থানীয় দাবি ও প্রশাসনের উদ্যোগ
পূজা উদযাপন পরিষদ নেতা দুলাল সমাদ্দার স্থানীয়দের দুঃখ-দুর্দশা চিরতরে বিদায় জানাতে দ্রুত খাল খনন ও কার্যকর পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
জলাবদ্ধতার প্রভাব
কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত
জীবিকা সংকট
শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
স্থানীয় অর্থনীতি দুর্বল
চূড়ান্ত কথা
যশোরের ভবদহ শুধু পানি জলে ভেসে থাকা জমি নয়; এটি এক মানবিক সংকটের প্রতীক। যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।