বৃহস্পতিবার , ২৫ জুলাই ২০২৪ , ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
পায়ে হেঁটে হজ করে বাড়ি ফিরলেন আলিফ মাহমুদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ জুলাই , ২০২৪, ০৫:২০:০০ পিএম
কুমিল্লা সংবাদদাতা:
Shornolota_2024-07-09_668d1d09545c7.JPG

পায়ে হেঁটে গিয়ে হজ্ব পালন শেষে বাড়ি ফিরেছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বটতলী ইউনিয়নের শেয়ার বাতাবাড়িয়া গ্রামের আলিফ মাহমুদ (২৫)। সোমবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেন তিনি। তার আগমণে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত উৎসুক জনতা তাকে এক নজর দেখতে ভিড় জমান। মরহুম আব্দুল মালেকের ৩ ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে আলিফ মাহমুদ সবার ছোট।



আলিফ মাহমুদ জানান, ২০২৩ সালের ৮ জুলাই নাঙ্গলকোটের বাতাবাড়িয়ে গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে ১৩ জুলাই ঢাকা পৌঁছেন আলিফ মাহমুদ। এর পর ধর্মমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ভিসা সংক্রান্ত কাজে প্রায় দেড় মাস রাজধানীতে অবস্থান করেন তিনি। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে হাঁটা শুরু করে ১৯ সেপ্টেম্বর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পৌঁছেন আলিফ।

ভারতে ৬৭টি দিন হাঁটার পর ২৫ নভেম্বর ভারতের ওয়াগাহ সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান পৌঁছেন আলিফ মাহমুদ।


পাকিস্তান থেকে হাঁটা শুরু করে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বন্দর আব্বাস সীমান্ত দিয়ে ইরান পৌঁছেন তিনি। আলিফ ইরান থেকে হাঁটা শুরু করে ২৭ জানুয়ারি আরব আমীরাতে পৌঁছেন। আরব আমীরাতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে আবুধাবীর শিলা সীমান্ত দিয়ে সৌদি আরব পৌঁছেন তিনি।
সর্বশেষ সৌদি আরবে ৪ মাস ১৪ দিন থাকার পর ওমরাহ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৭ মে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় চলে যান আলিফ মাহমুদ।


ইথিওপিয়া থেকে ২৩ মে পুনরায় পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব পৌঁছেন তিনি। এ ছাড়া আলিফ মাহমুদ ২০২২ সালে সাইকেল চালিয়ে ৪১ দিনে ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেন তিনি।


আলিফ মাহমুদ বলেন, ‘২০২৩ সালের ৮ জুলাই বাড়ি থেকে বের হয়ে দীর্ঘ ৯ মাস পায়ে হেঁটে সৌদি আরব পৌঁছে পবিত্র হজ্ব পালন করি। হজ পালন করে ৮ জুলাই এক বছর পর বাড়িতে এসেছি। এ দীর্ঘ পথ যাত্রায় আমি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এই ছয়টি দেশের প্রায় সাত হাজার ৫০০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেছি।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হেঁটেছি। এর মধ্যে আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আবুধাবি পৌঁছাতে একদিনে ৯০ কিলোমিটার হেঁটেছি। হাঁটতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের কালচার দেখেছি এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। শুধু মুসলিম নয়, অন্যান্য ধর্মের লোকও আমাকে দেখতে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, পবিত্র ভূমিতে গমণের জন্য আমার এ ত্যাগ দেখে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও আমাদের ধর্মের প্রতি অন্য ধর্মের লোকরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এটাই আমার সব ছেড়ে বড় পাওয়া।

আলিফ তার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, আমি বিশ্ব ভ্রমণ করবো। আফ্রিকার দেশগুলোসহ বিশ্বব্যাপী দ্বীনের দাওয়াত দিবো। এ ছাড়া আমি স্বপ্ন দেখি, আমি আমার এলাকায় দরিদ্র ও পথশিশুদের জন্য স্কুল, মাদরাসা ও তাদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপন করবো ইনশাআল্লাহ।

আরও খবর

🔝