মঙ্গলবার , ১৬ জুলাই ২০২৪ , ১ শ্রাবণ ১৪৩১

❒ পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ বিকেলে
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ জুন , ২০২৪, ১১:০৯:০০ এ এম , আপডেট : সোমবার, ১৫ জুলাই , ২০২৪, ০৩:৪৪:১৪ পিএম
ঢাকা সংবাদদাতা:
Shornolota_2024-06-06_666144a9572bc.JPG

আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হচ্ছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। আজ বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকাল ৩টায় নতুন অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

এটি বাংলাদেশের ৫৩তম বাজেট। আর টানা চতুর্থ মেয়াদে গঠিত বর্তমান সরকারের এটি প্রথম বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ২১তম বাজেট। পাশাপাশি বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপির এটি প্রথম বাজেট।

জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা অনুমোদন করে নেয়া হবে এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে সংসদে পাস হয়ে ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হবে।

জানা যায়, বিশাল অংকের এ বাজেটের ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেটের আয়-ব্যয়ের বিশাল ঘাটতি পূরণে প্রধান ভরসাস্থল হিসেবে ব্যাংক খাত বেছে নিয়েছে সরকার।

ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নেবে বলে লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। এই অংক চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ১০৫ কোটি টাকার বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল সরকার। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় এটি বাড়িয়ে এক ৫৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা ঠিক করা হয়েছে।

বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
আসন্ন বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রফতানিপণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রান্তিক মানুষের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবারের বাজেটে অগ্রাধিকারে থাকবে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। যেসব খাত দীর্ঘদিন কর অবকাশ সুবিধা পেয়ে আসছে, সেসব খাত থেকে এবারে কর অব্যাহতির সুবিধা উঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে-অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবাসইট এ বাজেটের সব তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পড়তে পারবেন এবং ডাউনলোডও করা যাবে। এছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এ ইমেলের মাধ্যমে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ পাঠাতে পারবেন।

দেশের জাতীয় বাজেটের ক্রমপুঞ্জি ও বাজেটের আকার ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ( কোটি হিসেবে) উপস্থাপন করা হলো:

অর্থবছর - কে উপস্থাপন করেছেন - মোট আকার - বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)
১৯৭২-৭৩ - তাজউদ্দিন আহমেদ -৭৮৬ কোটি টাকা - ৫০১ কোটি টাকা
১৯৭৩-৭৪- তাজউদ্দিন আহমেদ-৯৯৫ কোটি টাকা-৫২৫ কোটি টাকা
১৯৭৪-৭৫- তাজউদ্দিন আহমেদ- ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা- ৫২৫ কোটি টাকা
১৯৭৫-৭৬- ড. আজিজুর রহমান মল্লিক-১হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা- ৯৫০ কোটি টাকা
১৯৭৬-৭৭- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান- ১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা-১হাজার ২২ কোটি টাকা
১৯৭৭-৭৮- লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান- ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা- ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা
১৯৭৮-৭৯- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান- ২হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা-১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা
১৯৭৯-৮০- ড. এম এন হুদা- ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা-২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা
১৯৮০-৮১- এম সাইফুর রহমান- ৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা- ২ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা
১৯৮১-৮২- এম সাইফুর রহমান- ৪হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা- ৩ হাজার ১৫ কোটি টাকা
১৯৮২-৮৩- এ এম এ মুহিত- ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা- ২হাজার ৭০০ কোটি টাকা
১৯৮৩-৮৪- এ এম এ মুহিত- ৫ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা- ৩হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা
১৯৮৪-৮৫- এম সায়েদুজ্জামান- ৬ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা- ৩হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা
১৯৮৫-৮৬- এম সায়েদুজ্জামান- ৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা- ৩হাজার ৮২৫ কোটি টাকা
১৯৮৬-৮৭- এম সায়েদুজ্জামান- ৮ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা- ৪হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা
১৯৮৭-৮৮- এম সায়েদুজ্জামান- ৮হাজার ৫২৭ কোটি টাকা- ৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা
১৯৮৮-৮৯- মেজর জেনারেল মুনিম- ১০ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা- ৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা
১৯৮৯-৯০- ড. ওয়াহিদুল হক- ১২ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা-৮হাজার ৮০৩ কোটি টাকা
১৯৯০-৯১- মেজর জেনারেল মুনিম- ১২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা- ৫হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা
১৯৯১-৯২- এম সাইফুর রহমান- ১৫ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা- ৭হাজার ৫০ কোটি টাকা
১৯৯২-৯৩- এম সাইফুর রহমান- ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা- ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা
১৯৯৩-৯৪- এম সাইফুর রহমান- ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা- ৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা
১৯৯৪-৯৫- এম সাইফুর রহমান- ২০ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা- ১১ হাজার কোটি টাকা
১৯৯৫-৯৬- এম সাইফুর রহমান- ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা-১২ হাজার ১০ কোটি টাকা
১৯৯৬-৯৭- এসএএমএস কিবরিয়া- ২৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা- ১২ হাজার ৫০ কোটি টাকা
১৯৯৭-৯৮- এসএএমএস কিবরিয়া- ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা- ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা
১৯৯৮-৯৯-এসএএমএস কিবরিয়া- ২৯ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা-১৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা
১৯৯৯-২০০০- এসএএমএস কিবরিয়া- ৩৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা-১২ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা
২০০০-২০০১-এসএএমএস কিবরিয়া- ৩৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা- ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
২০০১-২০০২-এসএএমএস কিবরিয়া- ৪২ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা- ১৯ হাজার কোটি টাকা
২০০২-২০০৩- এম সাইফুর রহমান- ৪৪ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা-১৯ হাজার ২০ কোটি টাকা
২০০৩-২০০৪-এম সাইফুর রহমান- ৫১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা- ২০ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা
২০০৪-২০০৫-এম সাইফুর রহমান- ৫৭ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা- ২২ হাজার কোটি টাকা
২০০৫-২০০৬-এম সাইফুর রহমান- ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা- ২৩ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা
২০০৬-২০০৭-এম সাইফুর রহমান- ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা- ২৬ হাজার কোটি টাকা
২০০৭-২০০৮- মির্জা আজিজুল ইসলাম- ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা-২৫ হাজার ৬০ কোটি টাকা
২০০৮-২০০৯- মির্জা আজিজুল ইসলাম- ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা- ২৫ হাজার ৪০০কোটি টাকা
২০০৯-২০১০- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা- ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
২০১০-২০১১- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৩২ হাজার১৭০ কোটি টাকা- ৩৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা
২০১১-২০১২- এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা- ৪১ হাজার ৮০ কোটি টাকা
২০১২-২০১৩-এ এম এ মুহিত- ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা- ৫২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা
২০১৩-২০১৪- এ এম এ মুহিত- ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা- ৬০০০০ কোটি টাকা
২০১৪-২০১৫- এ এম এ মুহিত- ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা- ৭৫০০০ কোটি টাকা
২০১৫-২০১৬-এ এম এ মুহিত- ২লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা- ৯৩ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা
২০১৬-২০১৭- এ এম এ মুহিত- ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা- ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা
২০১৭-২০১৮- এ এম এ মুহিত- ৪লাখ ২৬৬ কোটি টাকা-১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা
২০১৮-২০১৯- এ এম এ মুহিত- ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা- ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা
২০১৯-২০২০- আ হ ম মুস্তাফা কামাল- ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা- ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা
২০২০-২০২১- আ হ ম মুস্তাফা কামাল-৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা- ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা
২০২১-২০২২- আ হ ম মুস্তাফা কামাল- ৬লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা- ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা
২০২২-২০২৩- আ হ ম মুস্তাফা কামাল- ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা- ২লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা
২০২৩-২০২৪ আ হ ম মুস্তাফা কামাল- ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা- ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।


এ এম এ মুহিত এবং সাইফুর রহমান তাদের নিজ নিজ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে সর্বোচ্চ ১২ বার করে বাজেট পেশ করেন। তবে, আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০১৮-১৯ সালের পার্লামেন্টে তাঁর অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে টানা ১০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন।

আরও খবর

🔝